
ফতুল্লার ইসদাইর খাল পরিষ্কার করে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে এলাকাবাসীকে মুক্তি দেওয়ার পর, এবার ডিএনডি (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) এলাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা পাকিস্তানি খাদে খাল খননের ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি। তার পূর্ববর্তী সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা দাবি জানালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং খালটি খনন করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার দৃঢ় আশ্বাস দেন। ফলে, এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
স্থানীয়দের দুর্ভোগ এবং রনির তাৎক্ষণিক সাড়া
ইসদাইর, আনন্দনগর থেকে রেজিস্ট্রি অফিস পর্যন্ত বয়ে যাওয়া খালটি খননের করার পর থেকেই মশিউর রহমান রনির এই উদ্যোগটি জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, ডিএনডি প্রকল্পের অধীন পাকিস্তানি খাদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা, যারা বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার শিকার, তারা যুবদল নেতা রনির সাথে যোগাযোগ করেন। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রনি দ্রুত তার অনুসারীদের নিয়ে পাকিস্তানি খাদ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
এ সময় স্থানীয়রা জানান, দখল ও ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় খালটি এখন একটি মৃতপ্রায় সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে। যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে, জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জনগণের এমন দুর্ভোগের চিত্র দেখে এবং তাদের দাবির প্রেক্ষিতে রনি অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।
শুধু পরিস্কারকরণ নয়, রয়েছে রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনাও
পরিদর্শন শেষে মশিউর রহমান রনি বলেন, “মানুষের কষ্ট লাঘব করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। ইসদাইর খালের মতো এখানেও আমরা বসে থাকব না। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, খুব শিগগিরই ডিএনডির পাকিস্তান খাল খনন কার্যক্রম শুরু করা হবে।”
তবে, তিনি শুধু খাল খননের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি টেকসই সমাধান চাই। তাই, এই এলাকার যুবকদের নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির প্রধান কাজ হবে খালের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ময়লা ফেলে বা দখল করে এর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করতে না পারে।” এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
“প্রতিশ্রুতি নয়, কাজেই বিশ্বাসী”: রনি
বিগত দিনের জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনা করে রনি তার বক্তব্যে বলেন, “যারা বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন এবং শত শত কোটি টাকার প্রকল্প দেখিয়ে লুটপাট করেছেন, আমরা তাদের মতো নই। আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান আমাদের জনগণের পাশে থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী হয়ে মানুষের মনে স্থান করে নিতে চাই।”
পরিশেষে বলা যায়, মশিউর রহমান রনির এই কার্যক্রমে ফতুল্লার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ইসদাইর খালের পর ডিএনডির পাকিস্তান খাল খনন করার এই নতুন আশ্বাস যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ডিএনডি এলাকার একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।







