নারায়ণগঞ্জে অবৈধ কয়েল কারখানায় জেলা প্রশাসনের অভিযান: উচ্ছেদ ও জরিমানা

12
নারায়ণগঞ্জের সৈয়দপুরে অবৈধ কয়েল কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।
নারায়ণগঞ্জের সৈয়দপুর এলাকায় অবৈধ কয়েল কারখানায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার সৈয়দপুর এলাকায় অবৈধ কয়েল কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুটি অবৈধ কয়েল কারখানা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেগুফতা মেহনাজের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অবৈধভাবে পরিচালিত কারখানাগুলো পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল।

অভিযানের বিস্তারিত:

  • আল ওয়ালি কেমিক্যাল অ্যান্ড কনজিউমার লি.: সৈয়দপুরের ফকিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত এই কারখানায় দুটি হিট চেম্বার ছিল।

  • লিলি ব্ল্যাক কয়েল কারখানা: ফকিরবাড়ি, মাদ্রাসা রোড এলাকায় অবস্থিত এই কারখানায় একটি হিট চেম্বার ছিল।

অভিযানকালে প্রায় ১০০ ফুট ৩/৪” ব্যাসের পাইপ, ৫০ ফুট হোজ পাইপ এবং একটি গ্যাস টানার মেশিন জব্দ করা হয়। `

কারখানাগুলোতে আবাসিক ডাবল বার্নার ব্যবহার করে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছিল। ৩টি আবাসিক ডাবল বার্নার (মোট ৬৩ ঘনফুট/ঘন্টা) এবং ৩টি হিট চেম্বার (মোট ৮০০ ঘনফুট/ঘন্টা) সহ মোট ৮৬৩ ঘনফুট/ঘন্টার অবৈধ লোড বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর ফলে প্রতি মাসে প্রায় ২ লক্ষ টাকার গ্যাস সাশ্রয় হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা:

উভয় কারখানার মালিককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে, কোনো মামলা বা এফআইআর দায়ের করা হয়নি।

বৃষ্টির কারণে ব্যাহত অভিযান:

টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নির্ধারিত একাধিক স্পটে অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়নি বলে ভ্রাম্যমাণ আদালত জানিয়েছে। ভবিষ্যতে অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা:

অবৈধ কয়েল কারখানাগুলো জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। এসব কারখানায় প্রায়শই নিম্নমানের ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়, যা কয়েল ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের শ্বাসযন্ত্রে প্রবেশ করে বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে। উপরন্তু, অবৈধ গ্যাস সংযোগ পরিবেশ দূষণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ায়। জেলা প্রশাসনের এই অভিযান জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।