
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসন। এসব আসনে পুরোদমে নির্বাচনি প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রচারণায় পিছিয়ে নেই। ফলে জেলাজুড়ে এখন বিরাজ করছে উৎসবমুখর নির্বাচনি আমেজ।
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মূলত বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন। এর মধ্যে চারটি আসনে বিএনপি তাদের একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে রয়েছেন দুজন তরুণ নেতা, একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং একজন ব্যবসায়ী। তবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে দলটি এখনও কোনো প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেনি।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পাঁচটি আসনেই তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এছাড়া এনসিপির অন্তত ১৫ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন, যাচাই-বাছাই শেষে শীঘ্রই তাদের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ):
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, জেলার ৫টি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমানে তিনি সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই তিনি মনোনয়নবঞ্চিত নেতা কাজী মনিরুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিমান দূর করেছেন। ইতোমধ্যে তাদের হাস্যোজ্জ্বল একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কর্মীদের মাঝে চাঙ্গাভাব ফিরে আসে। এ আসনে জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে মাঠে রয়েছেন রূপগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ও ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসাইন মোল্লা।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার):
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ এ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন। এখানে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লা। তিনি দুপ্তারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের সমাজকল্যাণ সম্পাদক। স্থানীয় ভোটারদের মতে, এ আসনে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ):
জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। তবে বেফাঁস মন্তব্যের জেরে বিরোধীরা তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে মিছিল-সমাবেশ করেছে, যা নির্বাচনের মাঠে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও শিক্ষাবিদ ড. মো. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া। ভোটারদের ধারণা, এখানে মূলত বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই দ্বিমুখী লড়াই হবে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ):
এ আসনে বিএনপি এখনও তাদের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। গুঞ্জন রয়েছে, জোটগত সমীকরণে আসনটি শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। তবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশায় প্রচার চালাচ্ছেন ছয়জন নেতা। তারা হলেন—সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিব ও যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি। বিএনপি এখানে প্রার্থী দিলে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বারের সঙ্গে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শক্তিশালী কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়ালে ভোটের হিসাব পালটে যেতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর):
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মঈন উদ্দিন ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ। ভোটাররা বলছেন, এ আসনেও বিএনপির সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর মূল লড়াই হবে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীও বেশ আলোচনায় রয়েছেন।







