
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম কর্তৃক মনোনীত ও বিএনপি জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর কারামুক্তির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনের একটি রেস্টুরেন্টে ‘কাসেমী পরিষদ’-এর উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বিগত দিনের আন্দোলন ও জেলজীবনের স্মৃতিচারণ করার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচন এবং সন্ত্রাস-মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন।
বক্তব্যে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বলেন, “২০২৩-২৪ সালে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলাম আমি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণেই আমাকে জেল খাটতে হয়েছে, অন্য কোনো কারণে নয়। জেলখানা এক ভিন্ন জগত, যেখানে কষ্ট ছাড়া আর কিছু নেই। সেখানে মান-সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন।”
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দল আমাকে মনোনয়ন দিয়ে রেখেছে। তবে যেহেতু জোটগত নির্বাচন, তাই জোট যার সাথে হবে, তার সাথেই নির্বাচন করব ইনশাআল্লাহ। আমি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত এবং মাঠে আছি।”
বক্তব্যে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শান্তি ও সহাবস্থানের অঙ্গীকার করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যারা সাধারণ জনগণ—হোক তারা আওয়ামী লীগ বা হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই—যাদের হাতে কোনো ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জমি দখল বা মাদকের দাগ নেই, তারা নিরাপদে থাকবেন। আমার এলাকায় এমন নিরীহ মানুষের কোনো ক্ষতি হবে না।”
তবে অপরাধীদের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে তিনি নিজ দলের এবং জোটের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দেন। কাসেমী বলেন, “যারা এখনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক বা দখলের সাথে জড়িত, তারা দ্রুত তওবা করে আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করুন। মনে রাখবেন—বিএনপি, জামায়াত বা হেফাজত বা আমার দল করে পার পাওয়া যাবে না। সন্ত্রাসী পরিচয় থাকলে দলীয় পরিচয় আপনাকে বাঁচাতে পারবে না। সুন্দর সমাজ গড়তে হলে এসব পরিহার করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মঈন উদ্দিন এবং হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। এছাড়াও সমমনা ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।







