
শনিবার (০৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে লড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের ভেতরের প্রতিযোগিতা ও সমালোচনার বিষয়ে অত্যন্ত উদার ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারপূর্ণ মন্তব্য করেন এই প্রবীণ নেতা।
শাহ আলম প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘‘নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আপনিও ধানের শীষের মনোনয়ন চান, আরও অনেকেই চান। আমরা জানতে পেরেছি, আপনিসহ শাহ আলমও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন মনোনয়ন পেতে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?’’
জবাবে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘‘রাজনীতিতে অনেক সময় বাবা-ছেলেও একসাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। শাহ আলম আমার ছোট ভাই। আমরা না হয়, একসাথেই মনোনয়নের যুদ্ধটা লড়বো।’’
টিপু প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নে সাংবাদিকরা জানতে চান, ‘‘মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ক্রমাগতভাবে আপনার বিরোধিতায় সোচ্চার রয়েছেন। প্রায়ই গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ আসছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতার এই বিরোধিতাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?’’
উত্তরে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘‘টিপুও আমার ছোট ভাই। দেখুন, আমি যেহেতু নির্বাচনে একজন প্রার্থী, সুতরাং যে কেউ আমার সমালোচনা করতে পারে। এটা তার অধিকার। সেই অর্থে টিপুও আমার সমালোচনা করতে পারে, এটা তারও অধিকার।’’
এসময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি বিশ্বাস করি দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তখন সকল মান-অভিমান ভুলে সবাই ধানের শীষের বিজয়ের স্বার্থে আমার সাথে কাজ করবে।
এর আগে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘‘আমি বিএনপির রাজনীতি ধারণ করি। দল যোগ্য মনে করলে আমি নির্বাচন করব। ফতুল্লার মানুষের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। আমি নির্বাচিত হলে ডিএনডি বাঁধের কার্যকর সংস্কারসহ জলাবদ্ধতা নিরসনকে অগ্রাধিকার দেব। এছাড়া মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূল করে একটি শান্তির জনপদ গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।’’
এ সময় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কার্যকরী কমিটির সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ, সহ-সভাপতি বিল্লাল হোসেন রবিন, যুগ্ম সম্পাদক আহসান সাদিক শাওন, কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান জুয়েল, কার্যকরী সদস্য আরিফ আলম দিপু, রফিকুল ইসলাম জীবন, আব্দুস সালাম, মাহফুজুর রহমান ও প্রণব কৃষ্ণ রায়।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রুমন রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আশরাফ, সিনিয়র সাংবাদিক নাহিদ আজাদ, রফিকুল ইসলাম রফিক প্রমুখ।







