
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী ঘোষণা করেছেন, নির্বাচিত হলে তার প্রধান এবং প্রথম কাজ হবে এলাকার দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলাবদ্ধতা’ নিরসন করা। একইসঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি আধুনিক বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ‘বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনী ইশতেহারের অগ্রাধিকার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আলী বলেন, “জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে আমার প্রথম কাজ হবে জলাবদ্ধতা নিরসন করা। আমার এলাকার মানুষ বৃষ্টির পানিতে কষ্ট পাবে না। এছাড়া আমার এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা সন্ত্রাসীর ঠাঁই হবে না। আমি নারায়ণগঞ্জকে একটি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক বাণিজ্যিক জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবো।”
সংবাদ সম্মেলনে রিপাবলিকান পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান আবু হানিফ হৃদয় বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর হাত ধরেই আজ রিপাবলিকান পার্টির এই শক্ত অবস্থান। তিনি পর্দার আড়ালে থেকে সাহস, শক্তি ও অর্থের যোগান দিয়ে দলটিকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। অত্যন্ত সম্মানের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, আসন্ন কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “নারায়ণগঞ্জের বড় বড় নেতারা কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে না পারলেও মোহাম্মদ আলী আজ একটি জাতীয় দলের শীর্ষ নেতৃত্বে। শামীম ওসমান বা সেলিম ওসমানের মতো ব্যক্তিরাও বিভিন্ন প্রয়োজনে মোহাম্মদ আলীর পরামর্শ ও সহযোগিতা নিতে আসতেন, আবার এখন যারা নিজেদের শক্তিশালী বলে দাবি করে তারাও তার কাছে বিভিন্ন সময়ে আসেন। তিনি কারো দালালী করেন না, বরং তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার আস্থার প্রতীক।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে লড়াই এখন বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী মনোনয়ন পেলেও, স্থানীয় ভোটারদের নজর এখন সাবেক বিএনপি নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর দিকে।
নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে মোহাম্মদ আলী বলেন, “মাঠে যারা আছেন সবাই ভালো, তবে জনপ্রিয়তার বিচারে তারা আমার ধারে কাছে নেই। সাতটি ইউনিয়নে আমি জনগণের জন্য কাজ করেছি, তাই জয়-পরাজয় ভোটারদের ওপর নির্ভর করছে। আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।”
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করলেও আমি বলছি—নির্বাচনী পরিবেশ উৎসবমুখর থাকবে। আমি নির্বাচনে ছিলাম, আছি এবং শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকবো।”
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মোহাম্মদ আলীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং মোহাম্মদ শাহ আলম। হেভিওয়েট এই নেতাদের অংশগ্রহণে এই আসনটি এখন সারা দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।







