বিতর্কিত রশিদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান না করার দাবি, এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা!

যাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, সেই দায়িত্ব পালন করবে - ইউএনও

56

বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে বিতর্কিত আব্দুর রশিদ মেম্বারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব না দেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

মেম্বারদের অভিযোগ, রশিদ মেম্বার একজন হত্যা মামলার আসামি এবং তার বিরুদ্ধে আরও চারটি হত্যা মামলা সহ বহু মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হলে এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্মারকলিপিতে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারগণ উল্লেখ করেছেন যে, রশিদ মেম্বার একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা চলমান রয়েছে, যা তাকে জনসেবার জন্য অযোগ্য করে তোলে।
মেম্বারদের মতে, এমন একজন ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হলে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটবে।

মেম্বাররা তাদের আবেদনে উল্লেখ করেছেন, “আমরা বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, আপনার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি যে, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ইসমাইল আরাফাত রুবেল অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। তাই আগামীতে যেন ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার বিতর্কিত রশিদকে যেন পুনরায় দায়িত্ব না দেওয়া হয়। কেননা আ. রশিদ দায়িত্ব পালনকালে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছিল, যা ইউনিয়ন পরিষদের আইনের বিরোধী।”

তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, রশিদ মেম্বার একজন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা সহ মোট ২২টি মামলা চলমান রয়েছে।

এমতাবস্থায়, একজন অভিযুক্ত ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব দেওয়া এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করে স্থানীয়রা।

তারা জানায়, স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক কর্মী (বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ সকল রাজনৈতিক দল) এবং সাধারণ নাগরিক কেউই রশিদ মেম্বারকে পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে রাজি নন। তাদের আশঙ্কা, যদি এই বিতর্কিত ব্যক্তি আবারও ক্ষমতার চাবিকাঠি হাতে পান, তাহলে তার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। স্মারকলিপিতে মেম্বারদের নাম ও স্বাক্ষর প্রমাণ করে যে, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও রশিদ মেম্বারের ক্ষমতারোহণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ।

বক্তাবলী ইউনিয়নের মেম্বারগণ এবং সাধারণ জনগণ এখন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তাদের দাবি, রশিদ মেম্বারের অতীত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং বর্তমান আইনি পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাকে যেন কোনোভাবেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া না হয়। প্রশাসনের সঠিক পদক্ষেপই পারে বক্তাবলী ইউনিয়নকে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা থেকে রক্ষা করতে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, আবেদনের বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না। তবে, এটুকু বলতে পারি। যাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, সেই দায়িত্ব পালন করবে।