
নারায়ণগঞ্জ সমাচার:
অনুমতি না নিয়ে ছবি তুলে ব্যানার তৈরির অভিযোগ উঠেছে নাসিকের ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির হোসাইনের বিরুদ্ধে। এভাবে তিনি জনগনকে বোকা বানাচ্ছেন বলেও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তবে কাউন্সিলরের দাবি সকল অভিযোগ মিথ্যা।
তার বিরুদ্ধে অনেকে অভিযোগ করে বলেন, কবির হোসাইন মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন, কথা বলছেন ভোটারদের সাথে। অনেক সময় কাউন্সিলর নিজে বা তার সঙ্গী-সাথীদের অনেকেই বয়স্ক ভোটারদের বলেন মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দেন। সাধারণ ভোটাররাও তাদের কথা মতো হাত রাখেন মাথায়, কাঁধে। কিন্তু এই অল্প সময়ের ফাঁকেই কবির হোসাইনের সুচতুর কর্মী-সমর্থকরা জনগনকে বোকা বানিয়ে ধোকা দিয়ে তাদের ছবি তুলে ফেলেন। আর সেই ছবি দিয়ে বড় বড় ব্যানার বানিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সাটিয়ে দেন বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে।

যেহেতু ছোট-বড় সকলের কাছে বয়স্ক মুরব্বীদের কদর একটু বেশী থাকে, তাই কবির হোসাইন বয়ষ্ক নারী-পুরুষদেরই এক্ষেত্রে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের ছবি দিয়েই মূলত ব্যানার তৈরি করেন। তবে, মুসলমান ধর্মের রীতি মেনে বয়স্ক মহিলাদের অনেকেই চান না যে, তাদের ছবি এভাবে রাস্তায় সাটানো হোক। তাছাড়া এসব ছবি ব্যবহার করার আগে কোনো অনুমতিও নেয়া হয়না। ফলে মহিলাদের ছবি ব্যবহার করায় অনেকেই এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগ করেন শহীদনগর মেম্বার গলি এলাকার ফকির চান মিয়ার ছেলে মামুন মোল্লা। তিনি নারায়ণগঞ্জ সমাচারকে বলেন, যেহেতু সামনে নির্বাচন তাই যে কেউ ভোট চাইতে পারে। কিন্তু ভোট চাইতে গিয়ে কোনো অনুমতি না নিয়ে তারা আমার মায়ের ছবি তুলে, সেই ছবি দিয়ে ব্যানার বানিয়ে রাস্তায় টানায়। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমি ছবি দেখার পর কাউন্সিলরের লোকজনদের কাছে জানতে চাই, কার অনুমতি নিয়ে কাউন্সিলর সাহেব এই ছবি তুলেছেন। তারা বলে আমাদের ভুল হয়েছে, পরে তারা রাতের বেলায় ব্যানারগুলো খুলে নিয়ে যায়। তাছাড়া, আমার মা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। এভাবে মা-বোনদের ছবি রাস্তার মাঝে ঝুলানো কোনো সভ্য সমাজের ব্যক্তির কাজ হতে পারে না বলেও মনে করেন তিনি।
একই অভিযোগ করেন একই এলাকার মরহুম বদরুদ্দিন সরদারের ভাতিজা শরীফ হোসেন। তিনি বলেন, আমার জেঠি মা বয়স্ক মানুষ। তার ছবি তুলে কিভাবে তারা রাস্তায় টানালো? ভোট চাচ্ছেন ভোট চান, কিন্তু এইসব ছল-চাতুরী, ধোঁকাবাজি, ভন্ডামি করার মানে কি?
স্থানীয়রা আরও জানায়, এমন আরো অনেক ব্যানার ফেস্টুন আছে যাদের অনুমতি না নিয়েই ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। অনেকেই ভয়ে সামনে এসে কিছু বলতে পারে না।
অনেকে আবার বলেন, মূলত যাদের ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের ছেলে সন্তান বা স্বজনরা অন্যান্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থক। তাই তাদের মা-বাবার ছবি ব্যবহার করে প্রার্থী ও সমর্থকদের মাঝে দ্বন্দ সৃষ্টির পায়তারা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এসব বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে কাউন্সিলর কবির হোসাইন বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা। এলাকা ঘুইরা দেহেন, বহু ক্যান্ডিডেট আছে, কয়জনে পারমিশন নিছে? আমার কোনো ঐ ধরনের ই নাই। আমার নিজের ভাই-ব্রাদার, ভাতিজা ছাড়া আমার বাইরের কোনো ছবি নাই।
যে বয়স্ক নারীর ছবি ব্যবহার করেছেন উনার ছেলেই আমাদের জানিয়েছেন এমন কথা বলার পর কবির হোসাইন বলেন, পুরা এলাকা ঘুরেন, আপনে দেখেন, আসেন।
আপনাকে বলার পর সেই ব্যানারগুলো সরিয়ে ফেলেছেন এমন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা মিথ্যা কথা, আমি এই ধরনের কোনো ব্যানার টানাই নাই।







