
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর দলের নাম ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন, কেউ যদি তার বা দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা বা অন্য কোনো অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দিতে হবে। সাগরের এই স্পষ্ট ও শক্তিশালী বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
শনিবার (১৫ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে নিজের আইডিতে এক বিবৃতিতে রাকিবুর রহমান সাগর বলেন, “আমি রাকিবুর রহমান সাগর, সাবেক সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদল, অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলছি, আমার নাম অথবা দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো প্রকার চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসার মতো ঘৃণ্য অপরাধ বা অন্য কোনো অন্যায় কাজে জড়িত হওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাকে সাথে সাথে ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করবেন। আমরা দেখেছি, সুযোগসন্ধানী কিছু অসাধু ব্যক্তি আমাদের অজান্তে দলের নাম ভাঙিয়ে অন্যায় সুযোগ-সুবিধা হাসিলের পাঁয়তারা করে। কিন্তু সেই সুযোগ আমরা কখনোই কাউকে দেব না।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, তারুণ্যের অহংকার জনাব তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, কোনো অন্যায়কারী, দখলবাজ বা মাদক ব্যবসায়ীর স্থান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) হবে না – সে যত বড়ই নেতা, কর্মী বা সাধারণ কেউ হোক না কেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ আমাদের হৃদয়ে, আমাদের শিরায়-উপশিরায় বহমান। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, দীর্ঘ সময় ধরে নিরলস আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা একটি স্বৈরাচারী হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। এই অর্জিত স্বাধীনতা ও দলের ভাবমূর্তি কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।”
রাকিবুর রহমান সাগর তার বিবৃতিতে আরও জোর দিয়ে বলেন, “দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করবে এমন কোনো ব্যক্তির বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে, তথা আমাদের সংগঠনে কোনো প্রয়োজন নেই – কর্মী হিসেবেও তাদের দরকার নেই। এই কথা অত্যন্ত স্পষ্ট এবং পরিষ্কার। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের সেবা করতে চাই। কোনো দুর্বৃত্ত বা সুযোগসন্ধানীর কারণে দলের দীর্ঘদিনের সুনাম ও কর্মীদের আত্মত্যাগ ম্লান হতে দেওয়া হবে না।”
সাবেক এই ছাত্রনেতার এমন বলিষ্ঠ ও সময়োপযোগী বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এবং সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন, দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ফায়দা লোটার প্রবণতা রোধে এ ধরনের কঠোর হুঁশিয়ারি অত্যন্ত জরুরি। এটি দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএনপির প্রতি আস্থা বাড়াতেও সহায়ক হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনগুলোতে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে যে, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দল জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।







