ঈদযাত্রায় ভাড়ার নৈরাজ্য: নারায়ণগঞ্জে সেনাবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৬

26
ঈদযাত্রায় ভাড়ার নৈরাজ্য: নারায়ণগঞ্জে সেনাবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৬

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামতেই নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন আন্তঃজেলা বাস কাউন্টারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ভুক্তভোগী যাত্রীদের অসংখ্য অভিযোগের প্রেক্ষিতে, গতকাল (০১ জুন, ২০২৫) শহরের চাষাঢ়া মোড় এবং আর্মি মার্কেট এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বিত এই অভিযানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলাসহ মোট ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির অসাধু পরিবহন ব্যবসায়ী ও কাউন্টার স্টাফরা সাধারণ সময়ের ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ, ক্ষেত্রবিশেষে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি অর্থ আদায় করছিলেন। যাত্রীদের অভিযোগ, সাধারণ ৯০০ টাকার ভাড়ার রুটে আদায় করা হচ্ছিল ১২৫০ থেকে ১৬৫০ টাকা পর্যন্ত, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি। শুধু তাই নয়, ঈদযাত্রার অজুহাতে অনেক ক্ষেত্রে “ঈদ বোনাস” নামেও চাপানো হচ্ছিল বাড়তি অর্থ।

ভুক্তভোগী একজন যাত্রী জানান, নিয়মিত ৯০০ টাকার ভাড়া তার কাছ থেকে ১৬০০ টাকা চাওয়া হয়েছে। আরেকজন নারী পোশাক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত সপ্তাহে যে রুটে পরিবারের সদস্যদের ৪০০ টাকায় পাঠিয়েছি, আজ সেই একই রুটে আমার কাছ থেকে ৮০০ টাকা ভাড়া চাওয়া হয়েছে। ঈদে সবসময়ই এমন বাড়তি ভাড়া গুনতে হয় আমাদের, দেখার যেন কেউ নেই!”

ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েই সেনাবাহিনী নিজস্ব কৌশলে অনুসন্ধানে নামে। অভিযানের প্রাথমিক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাদা পোশাকে বিভিন্ন কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ করে টিকিট মূল্য যাচাই করেন। একাধিক কাউন্টারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলার পরই মূল অভিযান শুরু হয়। সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল চাষাড়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করে। এসময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আটককৃত ৬ জনকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হস্তান্তর করা হয়। অভিযানের সময় কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দিতেও বাধ্য করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী এক সেনা কর্মকর্তা জানান, “নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলা অন্যায়। সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও হয়রানিমুক্ত করতে এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতেই আমাদের এই উদ্যোগ। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক এ ধরনের অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।”

সেনাবাহিনীর এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ফিরে এসেছে। এক যাত্রী বলেন, “ঈদের সময় ভাড়া বাড়িয়ে নেয়া একপ্রকার দুঃসহ অভিজ্ঞতা। সরকার এবং সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপ আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক।” তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে ঈদযাত্রায় টিকিট কালোবাজারি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা কমবে এবং ঘরমুখো মানুষ কিছুটা হলেও শান্তিতে যাত্রা করতে পারবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ধরনের সমন্বিত অভিযান চলমান থাকবে বলে তারা জানান।