
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে উন্নয়ন প্রশ্নে আবারও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। প্রায় তিন দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এখন সাধারণ ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
একদিকে বিএনপির সাবেক এমপি আলহাজ্ব মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের এক মেয়াদের (২০০১-২০০৬) উন্নয়ন।
অন্যদিকে, আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি এ কে এম শামীম ওসমানের চার মেয়াদের শাসনকালের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে দাঁড় করানো হচ্ছে তুলনার পাল্লায়।
স্থানীয়রা বলছে, গিয়াস উদ্দিনের ৫ বছরের কাজ শামীম ওসমানের ১৭ বছরের অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে।
গিয়াস উদ্দিনের ৫ বছর: ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জের ‘স্বর্ণযুগ’
২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০০৬ সাল পর্যন্ত।
তার সমর্থক ও অনেক সাধারণ মানুষের মতে, এই পাঁচ বছর ছিল এলাকাটির জন্য যুগান্তকারী পরিবর্তনের সময়।
তার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে:
-
-
সিদ্ধিরগঞ্জকে পৌরসভায় রূপান্তর: তার শাসনামলের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হয় সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদকে পৌরসভায় উন্নীত করা। এই পদক্ষেপের ফলেই পরবর্তীতে এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হতে পেরেছে, যা উন্নয়নের ধারাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে।
-
যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব: ফতুল্লার বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোকে সংযুক্ত করতে গিয়াস উদ্দিনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কাশীপুর ব্রিজ নির্মাণ করে তিনি দুই পারের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেন। এছাড়াও, আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় প্রায় ৩০টির বেশি ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নীরব বিপ্লব ঘটান।
-
স্থায়ী উন্নয়ন: তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নানা অপপ্রচারের শিকার হলেও, তার নির্মিত অবকাঠামোগুলোর সুফল আজও ভোগ করছে এলাকাবাসী। তার উন্নয়নকে “দৃশ্যমান ও পরিকল্পিত” বলে আখ্যা দিচ্ছেন অনেকেই।
</
-
ul>
<
-
- strong class=”ng-star-inserted”>
শামীম ওসমানের চার মেয়াদ: উন্নয়নের দীর্ঘ অপেক্ষা?
বিপরীতে, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান চার মেয়াদে প্রায় ১৭ বছর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর মাঝে প্রয়াত সারাহ বেগম কবরীও এক মেয়াদে এমপি ছিলেন।
কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে ফতুল্লায় প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের সমালোচনার প্রধান দিকগুলো হলো:
-
-
-
পরিকল্পনাহীনতা ও জলাবদ্ধতা: সবচেয়ে বড় অভিযোগ, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব। বর্ষা মৌসুমে ফতুল্লার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিই (ফতুল্লা, কুতুবপুর, এনায়েতনগর, কাশিপুর) ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হয়। ডিএনডি প্রকল্পের সুবিধা থেকে কুতুবপুর ও ফতুল্লার মতো দুটি বড় ইউনিয়নকে বাইরে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা সমস্যাকে আরও ভয়াবহ করেছে।
-
-
-
রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর অভাব: নতুন রাস্তা বা ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ তো দূরের কথা, পুরোনো অনেক রাস্তা বেদখল হয়ে সংকুচিত হয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের মতে, গত ১৭ বছরে ফতুল্লাবাসী দৃশ্যমান কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্প পায়নি।
-
অভিশাপের অভিযোগ: দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও ফতুল্লাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করতে না পারায় আওয়ামী শাসনকালকে “অভিশাপ” হিসেবে দেখছে স্থানীয়রা।
-
-
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ভোটাররা বিগত সময়ের উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন।
গিয়াস উদ্দিনের এক মেয়াদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শামীম ওসমানের চার মেয়াদের চেয়ে বেশি ফলপ্রসূ ছিলো বলে গিয়াস সমর্থকদের।
তারা বলছে, গিয়াস উদ্দিন পুনরায় এমপি নির্বাচিত হলে ফতুল্লার সকল সমস্যার সমাধান হবে।







