
নারায়ণগঞ্জ সমাচার:
নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার শুরুতেই অনেকটা বাজিমাত করে দিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য ও ১৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মাসুম আহমেদ। তার নির্বাচনী উঠান বৈঠকগুলো অনেকটা জনসভায় পরিণত হয়ে যাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার তার নির্বাচনী উঠান বৈঠকে গিয়ে দেখা যায় এমনই চিত্র। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডের প্রতিটি এলাকার যুবক-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শত শত মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়ে মাসুম আহমেদকে সমর্থন দিচ্ছেন এবং আগামী নির্বাচনে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে তাকে জয়ী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মাসুমও তাদের নিরাশ করেন নি, বলেছেন এলাকার উন্নয়নে সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত উন্নয়নের প্রস্তাব।
আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন উপলক্ষ্যে নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ডের গোয়ালপাড়া এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত উঠান বৈঠকে মাসুম আহমেদ এসব কথা বলেন।
কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মাসুম আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন না করলে আমি বুঝতে পারতাম না আমার ভাই, বন্ধু, এলাকার যুবক-মুরুব্বীরা আমাকে এতোটা ভালোবাসে। নির্বাচিত হলে সমাজ সেবা করা যায়, নির্বাচন ছাড়াও সমাজ সেবা করা যায়। আমি নির্বাচন করে পাবলিককে বাড়ি গাড়ি, ধন-সম্পদ বিক্রি করে খাওয়াতে পারবো না। আমি দুইটা জিনিস পারবো, এটা হলো আমি বিচার করে টাকা খাবো না। আর সরকারী দান-অনুদান আছে সেগুলো আমি নিজে তসরুপ করবো না। আমি চেষ্টা করবো, আল্লাহ আমাকে যতটুকু দিয়েছেন, সেখান থেকে যতটুকু সম্ভব আপনাদের জন্য করবো। আর একটা জিনিস ব্যক্তিগতভাবে করবো যেটা আমি ওয়াদা করছি ১৪নং ওয়ার্ডকে আমি পুরোপুরি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনবো।
তিনি বলেন, আমি সবসময় আপনাদের সাথে থাকার, পাশে থাকার চেষ্টা করবো। আমি কোনোদিন গুন্ডা-পান্ডা, খারাপ মানুষ নিয়ে চলবো না। আমি সবসময় একাই চলবো। আমি অন্যায় অপরাধ করলে আমাকে এসব মানুষ নিয়ে চলতে হবে। আমি যদি নির্বাচিত হই ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো, যত রাতেই আমাকে ডাকেন না কেন আমি আপনাদের ডাকে সাড়া দিবো। আমার এলাকাটা উন্নয়ন হোক, সুন্দর হোক, মাদক মুক্ত হোক। মাদক মুক্ত করতে হলে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি কাউকে বলবো না, কাউকে জোরপূর্বক ডেকে আনবো না, যে আপনারা মিটিংয়ে আসেন, মিছিলে আসেন। আমি যদি কাউন্সিলর হই, একইসময়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি, পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি, এই কমিটি ঐ কমিটির সভাপতি হবো না এটা হলো আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। কেননা ১৪ নং ওয়ার্ডে আমার চেয়ে অনেক শক্তিশালী, মানসম্পন্ন, শিক্ষিত ও ব্যক্তিত্বশালী মানুষ আছে যারা ঐ সকল চেয়ারে বসার অধিকার রাখে।
অনেকেই মানুষ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেয়, ড্রেন, রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট উন্নয়ন করবো, মাদক-সন্ত্রাস, দুর্ণীতি রুখে দিবো। কিন্তু আসলে তারা নির্বাচিত হলে পরে তাদের নিয়েই চলে। ড্রেন-রাস্তার উন্নয়ন এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, বছরে ৩ বার ড্রেনগুলো পরিস্কার করা হয়, এটা স্বাভাবিক নিয়মেই প্রতি বছর টেন্ডার হয় সিটি কর্পোরেশন থেকে এবং পুরো সিটি কর্পোরেশনেই হয়। এতে কারো কৃতিত্ব নেই।
সেই ১৯৭৮ সাল থেকেই আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত উল্লেখ করে মাসুম বলেন, ১৯৭৮ সনে এই ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম আমি। বর্তমান মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা তখন সভাপতি ছিলেন আর বর্তমান মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এড. হান্নান আহম্মেদ দুলাল ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। আমরা অনেক আগে থেকেই আওয়ামীলীগ করে আসছি, নাসিম ভাই, সেলিম ভাই, শামীম ভাই সকলেই আমাকে চিনে। আমরা কখনোই নাম বিক্রি করে চলি নাই। সেই ৭৮ থেকে আজ অব্দি আওয়ামীলীগের সাথেই আছি। এই দল, ঐ দল করি নাই।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম পারভেজ, মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হান্নান আহমেদ দুলাল সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শত শত নারীপুরুষ।







